কিশোরীকে ধর্ষণ চেষ্টা : মামলা তুলে নিতে হুমকি

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা গ্রাম্যসালিসে মিমাংসার চেষ্টা করা হয়। অবশেষে এই ঘটনায় মামলা হলে তা তুলে নিতে বাদিকে ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ এবং ভূক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ মার্চ দুপুরে উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়নের ওই কিশোরী বাড়িতে ঘরের ভেতর ছিল। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় প্রতিবেশি জীবন হোসেন (২০) মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে মেয়েটির ডাকচিৎকারে মা এগিয়ে আসলে জীবন ঘর থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবার মামলা করতে চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ঘটনাটি পাঁচ লাখ টাকায় গ্রাম্যসালিসের নামে মিমাংসার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন অভিযুক্ত জীবনের পরিবার ও মাতবররা। পরে গত ৬ মার্চ কিশোরীর বাবা বাদি হয়ে জীবনসহ তাঁর বাবা ও মাকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

গত রোববার সরেজমিনে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে বাবা ও মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা অভিযোগ করেন, প্রথম থেকেই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় দিঘুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া ওরফে গোলাপ, পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির নেতা শফিকুল ইসলাম চেষ্টা করেন। পরে মামলা করা হলে আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন। মামলা হলেও আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, মামলা করায় আসামিরা হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এখন আমরা খুব ভয়ের মধ্যে আছি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা গোলাম কিবরিয়া বলেন, ঘটনাটি মিমাংসার জন্য উভয়পক্ষকে বলা হয়েছিল। তবে মামলা হওয়ার পর তা সম্ভব হয়নি। সালিসে এ ধরণের অপরাধ মিমাংসার অযোগ্য এ ব্যাপারে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

ঘটনার পর থেকে জীবনসহ আসামিরা বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছে। বাড়িতে গিয়েও তাঁদের কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকর্মকর্তা ও সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিনয় সরকার বলেন, মামলা তুলে নেওয়ার বিষয়ে বাদিপক্ষের কেউ জানাননি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Facebook Comments Box
ভাগ