ঘিওরে ব্যবসায়ির দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করে জমি দখলের অভিযোগ!

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী এলাকায় মতিউর রহমান নামে এক ব্যবসায়ির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে জায়গা দখল করে নতুন স্থাপনা নির্মানের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামীলীগ নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এঘটনায় ভুক্তভোগী মতিউর রহমান বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বীর সিংজুরী গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে মো: মতিউর রহমানের সাথে একই গ্রামের মৃত ইসরাত বেপারীর ছেলে মো: সাজাহানসহ কয়েকজনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। মতিউর রহমান বীর সিংজুরী মৌজার আরএস ৩৯ খতিয়ানের ৯৬৬ দাগের ১৫ শতাংশ জমিতে চারটি দোকান ঘর ভাড়া দিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ মার্চ সকাল ৮টার দিকে মামলার ১৫ আসামীসহ আরো ১০/১৫ জন প্রাণনাশক অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর ভোগ দখলীয় ভূমিতে অনধিকার প্রবেশ করে দোকানপাট ভেঙ্গে ফেলে। এসময় আসামীরা দোকানে থাকা একটি ফ্রিজ, ১টি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি, দোকানের মুদি মালামাল এবং ফার্মেসীর ৫ লাখ টাকার ঔষধপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

মামলার আসামীরা হলেন, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নওখন্ডা গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে মো: রুবেল, ঘিওরের বীর সিংজুরী গ্রামের ইরসাত বেপারীর ছেলে মো: শাজাহান, হাবেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হক, খগেন চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে উপেন চন্দ্র সূত্রধর, ইদ্রিস আলীর ছেলে মো: খোরশেদ, গোড়াই শেখের ছেলে কুকন শেখ, মো: আমির, বাছেন মিয়ার ছেলে মো: ইউনুছ, মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে মো: মজিবুর রহমান, ফরিদুর রহমান, মো: শাহিনুর রহমান, সহিমের ছেলে মো: আক্কাস আলী, দুদু মল্লিকের ছেলে মো: জামাল, একই ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের জুনু মিয়ার ছেলে মো: আক্কেল ও কামারজাগী গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে আব্দুর রহমান।

মামলার বাদী মতিউর রহমান জানান, ২১ মার্চ তারা আমার দোকান পাট ভেঙ্গে সেখানে তারা নতুন করে ঘর নির্মাণ করে। আমি আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা করি। আসামীরা সেই আইন ভেঙ্গে তাদের কাজ চালিয়ে যায়। পরে আমি ২৩ মার্চ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-০৬ আদালতে মামলা দায়ের করি।

মামলার আসামী সিংজুরী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহজাহান বলেন, আমরা জোড়পূর্বক জায়গা দখল করিনি। আমার খালাতো ভাই মো: রুবেল পাওয়ার মূলে এই জায়গার মালিক। আমরা আমাদের জায়গা বুঝে নিয়েছি। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হয়েছে।

এব্যাপারে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করা হবে।

Facebook Comments Box
ভাগ