ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা

ধামরাই(ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকার ধামরাইয়ে ফেইসবুক এ স্ট্যাটাস দেওয়ার পর ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের ফোর্ডনগর এলাকায় বংশী নদীতে লাফ দিয়ে বিকাশ ইসলাম(২১) নামে এক কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা যায়,নিহত বিকাশ ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার আমান উল্লার ছেলে। সে বর্তমানে সাভারের রেডিও কলোনি এলাকার মুকসেদ আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া।বিকাশ পরিবারের সাথেই থাকে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার(১৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে বংশী নদীতে তল্লাশী চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে ।

এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে রোয়াইল ইউনিয়নের ফোর্ডনগর এলাকার বংশী নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল এই কলেজ ছাত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল বিকাশ ইসলাম। রোববার রাত ৮টার দিকে নিজের ফেইসবুকে বাবা-মার কাছে ক্ষমা চেয়ে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করে বংশী নদীর উপরে ব্রীজ থেকে পড়ে নিখোঁজ হয়।

খবর পেয়ে পরেরদিন সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বংশী নদীতে তল্লাশী করে তার লাশ উদ্ধার করে। এদিকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর একজোড়া স্যান্ডেল বংশী নদী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই শিক্ষার্থী ফেইসবুকে লিখেছিলেন, “কৃতজ্ঞতা জানাই আমার পরিবার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও আমার প্রিয় মানুষটাকে। আমার কারো প্রতি কোনো ক্ষোভ রাগ অভিমান নাই। যা করেছি বাস্তবতার সাথে তাল না মেলাতে পারার জন্যই করেছি। আমি হেরে গেছি আমি ব্যর্থ। অনেক ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করে বাবা-মার সেবা-যত্ন করার। কিন্তু বাস্তবতা আসলেই কঠিন যা অনেকে মেনে নিতে পারে, আবার অনেকে পারেনা। আমি না পারার দলেই পড়লাম। মা পারলে মাফ করে দিও।” এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর সে বংশী নদীতে লাফ দেয়। পরের দিন সোমবার সকাল ১১ টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপ- পরিদর্শক সেলিম রেজা বলেন,নিহত বিকাশ ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।পরিবারবর্গের কোন অভিযোগ না থাকায় মর্গের যাবতীয় কাজ শেষ হলে বিকাশের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।তবে কি কারণে ওই শিক্ষার্থী ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নদীতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
ভাগ