বন্যার পানিতে ভাসছে হরিরামপুর

সাকিব আহমেদ, হরিরামপুর : পদ্মা নদীতে অব্যাহত পানি বৃদ্ধি, প্রবল বৃষ্টিপাত উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোত প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের তিনটি স্থান ধসে গেছে। সড়কের ওপর দিয়ে পানি উঠেছে। এতে উপজেলা সদরে চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২০ হাজারের বেশি পরিবার। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষজন।

এলাকাবাসী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে হরিরামপুরে পদ্মা নদীতে অব্যাহত পানি বাড়ায় উপজেলা পরিষদ চত্বর, হরিরামপুর থানা প্রাঙ্গণ, পাটগ্রাম অ.ব. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি উঠে পড়েছে।

এ ছাড়া রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকচর, জগন্বাথপুর, ভাওয়ারডাঙ্গী, বাহির চর;ইউনিয়নের হারুকান্দি, ভেলাবাদ, হারুকান্দি, চানপুর, গোপীনাথপুরের চরপাড়া, উজানপাড়া, ভাটিপাড়া, বাহাদুরপুর, ছোট বাহাদুরপুর, কাঞ্চনপুরের বালিয়াকান্দি, শুভকান্দি, বৈদ্যকান্দি ও কাঞ্চনপুর; লেছড়াগঞ্জের পাটগ্রাম, সিলিমপুর, হরিহরদিয়া, কাজিকান্দা, গঙ্গাপ্রসাদ, রুস্তমপুর ও লেছড়াগঞ্জ; বয়ড়ারি দড়িকান্দি, খালপাড় বয়ড়া, দাসকান্দি বয়ড়া; ধূলশুড়ার কমলাপুর, নীলগ্রাম, আবিধারা, গঙ্গারামপুর, শ্যামপুর, রামেশ্বরপুর ও আলিয়ানগর গ্রামসহ আজিমনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক স্থানে পথঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। অনেক পরিবার গবাধিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।

মানিকগঞ্জ পাউবোর পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) ফারুক আহমেদ বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে মানিকগঞ্জেও নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। জেলায় মারাত্মক বন্যার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।আজ শনিবার সকাল নয়টায় শিবালয় উপজেলার আরিচা পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ১০ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার ছিল, যা বিপৎসীমার মাত্র ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। হরিরামপুরের পদ্মায় নদীতেও বিপৎসীমার প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে জানান তিনি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান বলেন, জেলার সবচেয়ে নিচু এলাকায় পদ্মা নদীতীরবর্তী এই উপজেলা। পানি বৃদ্ধির কারণে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন। তিনি বলেন, উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের পাটগ্রাম মোড়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক ধসে গেছে। এতে উপজেলা সদরে যাতায়াত মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক এলাকায় পানির স্রোতে কাঁচারাস্তা ধসে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং মানুষের কষ্ট লাঘবে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানিবিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মওজুদ রাখা হয়েছে। উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের থাকার জন্য দুটি আশ্রয় কেন্দ্রসহ ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে চারটি ইউনিয়নের ৪০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে’র মধ্যে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

Facebook Comments
ভাগ