শিবালয়ে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটায় হুমকির মুখে আবাদী জমি

এ আর রানা: মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করার অভিযোগ উঠেছে। আর পুকুর খনন করার পর তোলা মাটি চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয়দের কাছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়ছে আশেপাশের আবাদী জমি।

উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার হেক্টর আবাদি জমি আছে। শ্রেণিভেদে প্রায় সব জমিতেই সারা বছরই কোনো না কোনো ফসলের আবাদ হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মোনাইল, লক্ষীপুরা, শাকরাইল মিয়া পাড়া গ্রামের শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জহির উদ্দিন মানিক, বিল্লাল হোসেন, মতিউর রহমান মতিন ও ডাক্তার জালাল উদ্দীন আহমেদসহ পাঁচ ছয়জন ভূমি আইন উপেক্ষা করে কৃষিজমিতে পুকুর খনন করছে। প্রতিদিন তাদের সুবিধামত সময়ে জমিতে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোনাইল গ্রামের একাধিক কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা নিরীহ কৃষক। কৃষি কাজ করেই কোন রকম আমাদের সংসার চলছে। আইনের তোয়াক্কা না করেই মোনাইল চকে প্রায় ১০০ শতাংশ কৃষি জমিতে শিমুলিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মো. জহির উদ্দিন মানিক, বিল্লাল হোসেনসহ আরো কয়েকজন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বছরের প্রথম থেকেই ভেকু দিয়ে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করছে। ট্র্যাফে ট্রাক্টর দিয়ে ফসলি জমির মাঝখান দিয়ে ১২ থেকে ১৫ ফুট রাস্তা বানিয়ে তারা মাটি আনানেয়া করছে। যার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিল্লাল হোসেনের সাথে হলে তিনি জানান, আমি আগের বছর ওই জমি থেকে মাটি কেটেছিলাম। এখন আমি আর এর সাথে জড়িত নেই। এ বছর সেই কাজ ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি জহির উদ্দিন মানিক করছেন।

আইন অমান্য করে কিভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করছেন এ প্রশ্নের জবাবে আ’লীগ নেতা জহির উদ্দিন মানিক কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ফসলি জমিতে কোন লাভ না থাকায় পুকুর কেটে মাছ চাষ করার জন্য এটা কাটা হচ্ছে।

অপরদিকে, ডা: জালাল উদ্দিন আহমেদ তার বাংলো বাড়িতে মাটি ভরাট কাজের জন্য কৃষি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ কৃষি জমিতে মাটি কাটার ফলে জলাবদ্ধতার জন্য পাশের জমির ক্ষতি হবে।

আইন অমান্য করে কৃষি জমি থেকে কিভাবে মাটি কাটছেন এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদন আছে কিনা সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাছে অনুমোদনের কাগজ আছে। এবং অনুমোদনটি  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন জানান, কৃষি থেকে মাটির কাটার বিষয়টি আমি শুনেছি। হয়তো তারা রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে তা বিক্রি করছে। যারা আইন আমান্য করে মাটি কাটছে তাদের সাথে কথা বলে বন্ধের ব্যবস্থা করবো। তারা যদি তাদের কাজ বন্ধ না করেন তাহলে প্রশাসনের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম রুহুল আমিন রিমন বলেন, কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার জন্য আমাদের কাছে লিখিত কোন আবেদন আসেনি। মাটি কাটার জন্য কোন ব্যক্তিকে লিখিত বা মৌখিক অনুমতি দেওয়াও হয়নি। অতি শীঘ্রই আমরা তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আ.আ

Facebook Comments
ভাগ