শিবালয়ে বিরোধের জেরে ঘর ভাংচুর

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শাকরাইল মিয়াপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারীর টিনের ঘর ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৪ জুলাই সন্ধ্যার দিকে একই গ্রামের মৃত শফি মিয়ার ছেলে কিরন মিয়াসহ কয়েকজন খালেদা বেগমের জমির ওপর নির্মিত চারচালা টিনের ঘর ভেঙ্গে ফেলে।

এঘটনায় খালেদা বেগমের ছেলে সামিরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবালয় থানায় কিরন মিয়াসহ ৫ জনের নামে অভিযোগ করেছেন। অন্যান্য আসামীরা হলেন, কান্দা শাকরাইল গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে সুমন, শাকরাইল ঠেঙ্গামারা গ্রামের আতাই, তার ভাই নিতাই ও শাকরাইল গ্রামের জুমাত আলী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে খালেদা বেগমের পরিবারের সাথে কিরন গংদের জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। আসামীরা বেশ কিছুদিন ধরে ওই নারীর স্বামী আবুল কালাম ও তার ছেলে সামিরুল ইসলামকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জের ধরে কিরন ও তার সহযোগীরা খালেদা বেগমের নবনির্মিত চারচালা টিনের ঘর ভেঙ্গে ফেলে।

মামলার বাদী সামিরুল ইসলাম জানান, বছর খানেক আগে একই গ্রামের এ আই এম আসিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯শতাংশ জায়গা বায়না সূত্রে তারা ক্রয় করেন। মাটি ভরাট শেষে গত রোজার ঈদের পর তারা ওই জায়গায় একটি চারচালা টিনের ঘর নির্মাণ করে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশী কিরন মিয়া ও তার সহযোগিরা আমাদের ঘর ভেঙ্গে ফেলে। আমরা টাকা দিয়ে জমি ক্রয় করে ঘর নির্মাণ করেছি। কিরণ মিয়া আমাদের জায়গায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে অন্যায় ভাবে ঘর ভেঙ্গে দেয়। সুষ্ঠু বিচার পেতে আমি থানায় অভিযোগ করেছি।

এব্যাপারে অভিযুক্ত কিরন মিয়া জানান, ওই নয় শতাংশ জায়গার মালিক এ আই এম আসিফের ভাই লন্ডন প্রবাসী আনিছ উদ্দিন। ওই নয়শতাংশ জায়গার সামনে ১৩ শতাংশ এবং পিছনের ১৮ শতাংশ জায়গা আমি আনিছ উদ্দিনের কাছ থেকে ক্রয় সূত্রে মালিক। ওই ৯শতাংশ জমিও আমি আনিছ উদ্দিনের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে হাত বায়না করেছিলাম।

এ বিষয়ে এ আই এম আসিফ জানান, ওই জমি একটি নির্দিষ্ট মূল্যের মাধ্যমে আমি আমার ভাইয়ের পক্ষ হতে সামিরুলদের কাছে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বায়না করেছি। আমি সামিরুলদের বলেছিলাম তোমরা মাটি ভরাট করে গাছ লাগিয়ে রাখো। রেজিষ্ট্রি হওয়ার পরে তোমরা সেখানে স্থাপনা তৈরি করে নিও। এ বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার জন্য খুব শিগগিরিই বসার তারিখ হয়েছে।

শিবালয় থানার ভারাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: শাহিন জানান, সামিরুলদের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box
ভাগ