সেতুর আশায় ৫০ বছর: দূর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

মো. রুহুল আমিন, (ধামরাই): ঢাকার ধামরাই উপজেলার ফোর্ডনগর দক্ষিণপাড়ায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ধামরাই,সাভার এবং মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। ৫০ বছর ধরে মানুষ শুধু আশায় দিন কাটাচ্ছে। কবে হবে ধলেশ্বরী নদীতে সেতু, দুঃখ গোছাবে সাধারণ জনগণের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকার ধামরাই উপজেলার রোয়াইল, কুল্লা ও পার্শ্ববর্তী সাভার উপজেলার কিছু অংশ এবং সিংগাইর উপজেলার ধল্লা এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা।এলাকার লোকজন লেখাপড়া সহ বিভিন্ন কাজে শহরমুখী হচ্ছে প্রতিনিয়ত কিন্তু একমাত্র সেতু না থাকায় তারা পিছিয়ে আছে।কর্মস্থলে পৌঁছাতে যদি ৩০ মিনিট সময় লাগে তাহলে প্রায় তের দুই ঘন্টা সময় হাতে নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হয়। নদীতে পানি থাকলে অবস্থা বেগতিক।যখন পানি না থাকে তখন নদীর বুকে মাটি দিয়ে কিছুটা অংশ ভরাট করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়।

এলাকাবাসি পঞ্চাশ বছর ধরে একটি সেতুর দাবি করে আসছে কিন্তু তাদের দাবি নজড়ে আসছে না উর্ধতন কর্তা ব্যাক্তিদের। ফোর্ডনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের প্রতিটি রাস্তা-ঘাটই কাঁচা রয়েছে। এছাড়া তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য সাভারসহ ঢাকার বিভিন্ন বাজারে নিয়ে কেনাবেচা করতে পারছেন না। সেতু না থাকায় প্রচুর কাচামাল তাদের জমিতেই নষ্ট হয়ে যায়।সাধারণ কৃষকদের শস্য, সবজিগুলো গুদাম জাত করার কোন ব্যবস্থা নেই।ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় সাধারণ জনগণের।

এ বিষয়ে কুল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন জানান, আমাদের গ্রামটি সাভারের খুব কাছে থাকা সত্ত্বেও এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সকলেই শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছে কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন কেউ করে দেখায় নি। এলাকাবাসী বরাবরের মতো নৌকা দিয়েই পারাপার হতে হয়। কুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাবু কালিপদ সরকার ফোর্ডনগর দক্ষিণ পাড়া সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীতে ব্রিজ নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও এখনো পর্যন্ত এলাকাবাসীকে আশ্বাসের উপরই রেখেছেন। কবে হবে তা কেউ জানে না।আশা নিয়েই এখনো পথ চলছে জনগণ।

ফোর্ডনগর এলাকার সোহেল রানা বলেন, আমাদের ফোর্ডনগর গ্রামটি বংশী ও ধলেশ্বরী নদীর পাড় গেসা। তিন দিক থেকে নদী পরিবেষ্টিত মাঝখানে এই গ্রামটি। রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজের অভাবে মানুষের জীবনযাত্রার মান তেমন কোন পরিবর্তন ঘটেনি। অর্ধেক বাঁশের সাঁকো ও বাকি অর্ধেক খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় আমাদের। আমাদের এলাকার কৃষক উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় কাঁচাবাজারে পানির দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন। শুধু ধলেশ্বরী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পর হতে আজ পর্যন্ত কোন সেতু হয় নি এই নদীর উপর।দেখতে দেখতে কেটে গেল ৫০ বছর। আজও পেলাম না একটি সেতু। শুধু শুনেই যাচ্ছি। দুর্ভোগের শেষ কোথায়।

শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ এ পৌছাতে অনেক সময় লেগে যায়। অনেকে আবার সঠিক সময়ে পৌছাতে পারে না। একটি সেতুই মানুষের জীবনযাত্রাকে শত বছরের জন্য পিছিয়ে রেখেছে।

ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক বলেন, এই সেতুটি নির্মাণের জন্য উর্ধ্বতন অফিসে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তালিকায় প্রথম স্থানে থাকায় এই সেতুর কাজ প্রথম ধরা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Facebook Comments
ভাগ