হরিরামপুরে চলছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা

সাকিব আহমেদ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ডাকরখালি গ্রামে ড্রেজার বসিয়ে বালু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের তিন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ডাকরখালি চকে ড্রেজার বসিয়ে এলাকার বিভিন্নস্থানে বালু বিক্রি করে আসছে। তাদের ড্রেজার এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা। তবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বাঁধা দিতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ফিরোজ, সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম আরজ এবং জমির মালিক সবুজ ড্রেজার দিয়ে বালু-মাটি উত্তোলন করছেন। যে জমিতে তারা ড্রেজার বসিয়েছেন ঐ একই জমিতে এর আগেও ড্রেজার বসানো হয়েছিল। এলাকাবাসীর ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় পরবর্তীতে প্রশাসন ড্রেজারটি পুড়িয়ে দেয়। এ বছর ছাত্রলীগের উল্লেখিত নেতাকর্মী একই জায়গায় ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বাঁধা দিতে পারছেন না আশেপাশের জমির মালিকেরা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীগণ।

উত্তর গোড়াইল গ্রামের রাজা আলী বলেন, যেই জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ঐ জমির পাশে আমার জমি আছে। এর আগেও একবার ঐ জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করায় আমার ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছিল। এবারও ঐ জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অনেক গভীর করে বালু উত্তোলন করার ফলে আমাদের জমি ধ্বসে পড়ে যাবে । আমি কিছু বললে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সবুজ বলেন “তোমার জায়গা থিকা কি মাটি কাটতেছি নাকি। আমরা আমাদের জায়গায় থিকা মাটি কাটতেছি”। নেতাকর্মীদের ভয়ে কিছু বলতে পারছেন না বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আপনারা যদি পারেন তাহলে আমাদের জমি রক্ষা কইরা দেন। এই জমি ভেঙ্গে গেলে আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আমি গরিব মানুষ কার কাছে যামু। এর আগে ইউনিয়ন এর ভূমি অফিস থেকে লোক আইছিল কিন্তু তারা দেখেও কোন ব্যাবস্থা নেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

একই গ্রামের ভুক্তভোগী নবাব আলী বলেন, এর আগেও একবার ড্রেজার বসিয়েছিল তবে প্রশাসন এসে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন করছে। তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারছি না। তারা দলীয় লোক, কিছু বলতে যাইয়া মাইর খাইয়া মরুম নাকি আমরা।

এ ব্যাপারে হরিরামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান ফিরোজ এবং সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম আরজ বলেন, আমরা কারো ক্ষতি করে কাজ করছি না। এছাড়া ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টিও তারা অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমাদের এই বিষয়ে আগে কেউ জানায়নি। ড্রেজার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

Facebook Comments
ভাগ