হরিরামপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুই ভাইকে নির্যাতনের অভিযোগ

সাকিব আহমেদ হরিরামপুর(মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রে দিুই ভাইকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে। তারা দু’জনেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। আহতরা হলেন- বাদল মৃধা (৪২) ও মুসা মৃধা (৩৯)। তারা বসন্তপুর গ্রামের রতন মৃধার ছেলে। বাদল মৃধা ‘দি গার্ডেন’ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুসা মৃধা জানান, গত ২ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে তার ভাই বাদল মৃধা আজিমনগর ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রে ছবি প্রিন্ট করতে যান। সেখানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন (৪৫), তার ভাই মো. মুসা (৩৮), মো. মিঠু (৩৬), মো. দেলোয়ার (৪৩), মো. রহমান (৪০), চেয়ারম্যানের সহযোগি সাবেক মেম্বার আইয়ুব আলী (৪০), মো. আবু তালেব (৪৫), মো. ওমর ফকির (৪০) ও মো. ইনা ফকিরসহ অজ্ঞাত ৫-৭ জন মিলে বাদল মৃধাকে অমানুষিক নির্যাতন করেন। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তথ্য কেন্দ্রের সামনের রাস্তায় ফেলে রাখেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে তাকেও মেরে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয় সোহেল নামের এক ট্রলার চালককে তাদের দু’ভাইকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সোহেল আহতদের তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

মুসা মৃধার ভাই রহমান মৃধা জানান, তাদের দু’জনকে দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম তারা মরে গেছে। পরে দ্রুত তাদের হরিরামপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের অবস্থা গুরুতর দেখে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তাদের সদর হাসপাতালে নেয়া হলে মুসা মৃধাকে ভর্তি করা হয় আর বাদল মৃধাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেন।

এদিকে, এ ঘটনায় চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন তার চার ভাইসহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৫-৭ জনকে আসামী করে হরিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন ভোক্তভোগী পরিবার । গত ৭ আগস্ট হরিরামপুর থানা মামলা রজু করলেও ৮ আগস্ট সব আসামীই জামিন পেয়ে যান। জামিন পাওয়ার পরই আসামীরা ভুক্তভোগী পরিবারের আরো দু’জনকে মেরে ফেরার হুমকি দেন বলে জানান বাদল মৃধার কাকাতো ভাই লাল মৃধা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন সমস্ত ঘটনা অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হরিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। আসামীরা সবাই জামিনে রয়েছেন। তবে বাদীকে হুমকি ধমকির বিষয়ে আমাদের জানালে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

Facebook Comments Box
ভাগ