বেউথা-আন্ধারমানিক সড়কে খানাখন্দ, বাড়ছে ভোগান্তি ও দূর্ঘটনা

মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম জনপদ বেউথা আন্ধারমানিক সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের এ রাস্তায় এখন প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা, বাড়ছে ঝুকি। ফলে শহর থেকে হরিরামপুরমুখী প্রায় অর্ধশত গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়েই চলছে ঝুকিপূর্ন এসড়কে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙা রাস্তায় চলাচল করছে অবৈধ ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক ও সড়কের ধারন ক্ষমতার অধিক ওজনের ভাড়ি যানবাহন। ফলে ভাঙা রাস্তা আরো ভেঙে জনদূর্ভোগে পরিনত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেউথা আন্ধারমানিক সড়কের এক কিলোমিটার রাস্তার পিচ ঢালাই উঠে গেছে, খাল বাকলা উঠে বিশালাকার গর্ত আর খাদে বৃষ্টির পানিতে জমেছে হাটুজল। কিছু কিছু গর্ত ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত হওয়ায় হাটু পানিতে ভিজেই পার হচ্ছে পথচারীরা। ভাঙা সড়কের পুরো অংশ ব্যবহার করতে না পাড়ায় শহরের ব্যস্ততম এ সড়কে সারাদিনি লেগে থাকে জানজট। প্রতি নিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা। পুলিশের চোখ ফাকি দিতে অবৈধভাবে মহাসড়কের ভারি যানও চলছে এই সড়কে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে এলজিইডির নির্মিত এ সড়ক ভাড়ি যান চলাচলের কারনে ভেঙে ২ বছর আগেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরে। পরে সড়ক ও জনপদের অধিনে সংস্কার হওয়ার কথা থাকলেও নতুন করে আর কাজ করা হয়নি।

এ বিষয়ে হ্যালোবাইক চালক মতিন মিয়া জানান, গুরুত্বপূর্ন এ সড়কটিতে ভাঙন ও বড় বড় গর্তে মিনিট্রাক ও সিএনজি উল্টে প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। গতকালও সিলিন্ডার বহনকারী একটি মিনিট্রাক উল্টে গিয়ে দূর্ঘটনা ঘটেছে। একটু বেকায়দায় পড়লেই আর রক্ষা নেই এই সড়কে।
কয়েকজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জানান, মানিকগঞ্জ শহরের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রীক এ এলাকায় যেখানে ভালো মানের সড়ক প্রয়োজন, সেখানে পায়ে হেটে চলারও উপায় নেই। দর্শনার্থীরা বৃস্টির দিনে কাদা আর রোদের দিনে ধুলোর ভয়ে আসতে চায় না। ফলে প্রায় ১৩ টি রেস্টুরেন্টের অর্থনৈতিক দূর্দশা বিদ্যমান রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আবু মোহাম্মদ নাহিদ জানান, বেহাল এ সড়কে পৌরসভার তহবিল থেকে রাভিস ফেলে সংস্কার করেছি, রোলার দিয়ে সমতল করছি, বৃষ্টি আসলেই তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বসতির তুলনায় সড়ক নিচু হওয়ায় ও পানি নিস্কাশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের এ হাল হয়েছে। সড়ক ও জনপদের অধিনস্ত এ সড়কটি দ্রুত পুনঃনির্মানের বিষয়ে আমরা সব সময় তাগিদ দিচ্ছি। এক মাস আগেও পৌর সভার প্রধান প্রকৌশলীসহ উর্দ¦তন কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সড়কের স্টিমেট প্রকল্প আকারে সওজের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সড়ক উচু করতে হবে ও ১ কিলোমিটার সড়কেই থাকবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পৌর কতৃপক্ষ সওজ কে রাস্তা নির্মাণ, বাজেট অথবা পৌরসভাকে রাস্তা বুঝিয়ে দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। সওজ কতৃপক্ষ বাজেটের পরে একটা সুরাহা করার মৌখিকভাবে আস্বস্ত করেছে। এছাড়াও ধারন ক্ষমতার অধিক যানবাহন চলাচলে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তাদের প্রায়ই জানানো হচ্ছে। আশাকরি দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র মোঃ রমজান আলী জানান, প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যায়ে মহা-সড়কের আদলে এই সড়কটি ড্রেনেজ ও লাইটিংসহ মান সম্পন্য সড়ক ব্যবস্থা করতে আগ্রহী মানিকগঞ্জ পৌরসভা। সড়কটি নির্মান কাজ করার কথা সড়ক ও জনপদের। তাদের সাথে আলোচনা চলছে। সড়কটি আধুনিকায়ন করতে সর্বচ্চ চেষ্টা চলছে।

Facebook Comments Box
ভাগ