মানিকগঞ্জে ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরন দিলেন নামধারী ভুয়া দন্ত চিকিৎসক

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ শহরের খালপাড় এলাকায় জিন্নত রাবেয়া প্লাজায় (নিচতলা) ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী কেয়ার এর মাসুদ রানা নামে এক নামধারী ভুয়া দন্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের ঘটনায় ৭৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরন পেলেন ভোক্তভোগী পরিবার ।

মঙ্গলবার বিকেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ।

আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার মৃত সাব্বির হায়দার সিজার এর স্ত্রী শাহিনুর বেগম নূরী গত ৩ জুন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মাসুদ রানা নামক একজন ভূয়া ডেন্টিস্ট এর বিরুদ্ধে । জেলা প্রশাসক জনাব এস এম ফেরদৌস অভিযোগটি আমলে নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়কে । পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেষক্রমে মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা সেবা গ্রহীতাদের সাথে প্রতারণার অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত দন্ত চিকিৎসক মাসুদ রানাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শুনানির জন্য গত ৭ ও ৯ জুন ভোক্তা অধিকার কার্যালয়ে ডাকা হয় । অভিযুক্ত মাসুদ রানা নামের আগে ডেন্টিস্ট লেখার এখতিয়ার না থাকলেও আইনবহির্ভূতভাবে নামের আগে সাইনবোর্ড ও ব্যবস্থাপত্রে ডেন্টিস্ট লিখে সেবাগ্রহীতাদের সাথে প্রতারণা করার দায় স্বীকার করে । ভবিষ্যতে বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম ও মিথ্যা বিজ্ঞাপন থেকে বিরত থাকার মুচলেকা প্রদান করেন। অভিযুক্ত মাসুদ রানা অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭৫,০০০টাকা প্রদানপূর্বক অভিযোগটি সমঝোতার প্রস্তাব দেন। পরে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে ও পরামর্শে অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারীর সমঝোতার ভিত্তিতে অভিযোগটি নিষ্পত্তি করা হয় এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতারণা না করতে সতর্ক করা হয় অভিযুক্ত দন্ত চিকিৎসককে।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ মে সকাল ১০ টার দিকে দাঁতের ব্যথা অনুভব করায় নুরী তার স্বামীকে নিয়ে শহরের খালপাড় এলাকায় জিন্নত রাবেয়া প্লাজায় (নিচতলা) ওরাল এন্ড ডেন্টাল সার্জারী কেয়ার নামে মাসুদ রানার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় মাসুদ রানা সিজারের দাঁত উপরে ফেলার পরামর্শ দেন। বিষয়টি নিয়ে তারা দ্বিমত পোষণ করলে মাসুদ রানা তাদের বলেন যে দাঁত উঠানো না হলে ক্যানসারসহ জটিল রোগ হতে পারে। পরে মাসুদ রানা তাদেরকে আতঙ্কিত করে রাজি করিয়ে পরপর দুটি ইনজেকশন পুশ করে দাঁত টেনে উঠিয়ে ফেলে। এরপর থেকেই সিজারের প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হতে থাকে। ওই ঘটনায় ভীত হয়ে নুরী তার স্বামীর বড় ভাই সাজ্জাদ কবীরকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। পরে দীর্ঘ সময় পর সিজারের জ্ঞান ফিরলে মাসুদ রানা রোগীকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাসায় নিয়ে যেতে বলেন। পরে ১৯ মে সিজারের হাতপা ঠান্ডা হয়ে আসলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সিজারকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পর ভোক্তভোগী পরিবার জেলা প্রশাসক বরাবর ও মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে । এ নিয়ে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয় ।

Facebook Comments Box
ভাগ