শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা অনুদানের খবরে’ অনলাইন সার্ভিস দোকানে ভিড় !

সাকিব আহমেদ, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ): করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেয়া হবে- এমন গুজবে ১৫’ই মার্চ সোমবার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঢল নেমেছে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলায় । ফটোকপি ও অনলাইন সার্ভিসের দোকানগুলোতে লেগেছে উপচেপড়া ভিড়।

হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা বাজারে দেখা যায় অতিরিক্ত শিক্ষার্থীদের ভিড় । প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রত্যয়ন নিতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়। দূর-দূরান্ত থেকে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা আবেদনের জন্য আসেন।

কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান জানান, গত বছরের মতো এ বছরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অনুদানের জন্য আবেদন চাওয়া হয়েছে। এতে দূরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার শিকার শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দুস্থ, প্রতিবন্ধী, গরিব ও অনগ্রসর ছাত্রছাত্রীরা অগ্রাধিকার পাবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সংস্কার, আসবাবপত্র, খেলার সামগ্রী এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে। উল্লেখ্য
অনলাইনে আবেদনের সময় প্রথমে ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সে সময় বাড়িয়ে ৭ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী’তে তা বাড়িয়ে ১৫’ই মার্চ করা হয়।

১৫’ই মার্চ আবেদনের শেষ সময় হলেই কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, করোনাকালীন স্টুডেন্ট ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করার কথা শুনে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে অনলাইনে আবেদনের জন্য ভিড় করছেন।

এছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা ।

ঝিটকা খাজা রহমত আলী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শিরিন আক্তার জানায়, তার বান্ধবীর কাছে ১০ হাজার টাকা ভাতা দেয়ার কথা শুনে তিনি আবেদন করতে এসেছেন।

ঝিটকা খাজা রহমত আলী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর রহমান জানান, আমার সহপাঠী’রা ১০ হাজার টাকা পাওয়ার জন্য নিবন্ধন করছে এর জন্য আমিও কলেজ থেকে প্রত্যয়ন পত্র উঠিয়ে অনলাইন এ নিবন্ধন করছি। তবে আমাদের কলেজের শিক্ষক’রা এবিষয়ে কিছু বলেনি।

ঝিটকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি এবং ফারিয়া জানান,, আমার এক বান্ধবির থেকে শুনেছি বাংলাদেশের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সরকার ১০ হাজার করে অনুদান দিবে এর জন্য আমরা অনলাইন এ নিবন্ধন করতে এসেছি৷

একজন অভিভাবক জানান, সবার মুখে মুখে শুনে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন আবেদন করতে।

ফটোকপি ও অনলাইন সার্ভিসের এক ব্যাবসায়ী বলেন, আজ ১৫’ই মার্চ নিবন্ধনের শেষ দিন তাই আজ অনেক ভিড় তবে এই নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্কুল- প্রতিষ্ঠানের কোন হাত নেই তারা শুধু প্রত্যয়ন পত্র দিচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ সরকারি ওয়েবসাইট থেকে করতে হয়। নিবন্ধন করতে ১০০ টাকা করে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি ।

ঝিটকা খাজা রহমত আলী কলেজের প্রধান সহকারী মানিক মিয়া জানান, এ ধরনের চিঠি গত বছরও এসেছিল এবং সীমিতসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অনুদান পেয়েছেন। কিন্তু গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে এ বছর ধনী-দরিদ্র সব শিক্ষার্থী প্রত্যয়ন নিয়ে আবেদন করার জন্য ভিড় করছেন। তবে আমি এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ জানি না এবং কি ১০ হাজার টাকা করে দিবে এটা সম্পূর্ণ গুজব। আমাদের এ বিষয়ে কোন হাত নেই যারা প্রত্যয়ন পত্র নিচ্ছে আমরা শুধু তাদের’কে প্রত্যয়ন পত্র দিচ্ছি।

ঝিটকা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনোর উদ্দিন এবং ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব উদ্দিন জানিয়েছেন, অনলাইন এ যে চিঠি এসেছে তাতে সব শিক্ষার্থীর আবেদনের সুযোগ নেই; তবে এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী, অসহায়, অসচ্ছল ও মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু গুজবের কারণে সবাই প্রত্যয়নের জন্য ভিড় করছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের কোন হাত নেই। আমরা শুধু প্রত্যয়ন পত্র দিচ্ছি বলে জানিয়েছেন তারা।

Facebook Comments Box
ভাগ