শেরপুরে আটা-ময়দার দাম বৃদ্ধিতে চিন্তিত ভোক্তা সাধারণ

রফিক মজিদ, শেরপুর : শেরপুরে হঠাৎ করেই আটা ও ময়দার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধিতে ভোক্তা সাধারণ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই তেলের মতো আরো দাম বেড়ে বাজার থেকে তা উধাও হওয়ার আশংকা করছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছে দাম বাড়লেও এখনও পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে ফলে সংকটের সম্ভাবনা নেই। এদিকে বাজার মনিটরিং টিম ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিভাগ বলছে তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছে যাতে কৃত্তিম সংকট তৈরী করে কেউ বাড়তি মুনাফা না করতে পারে।

ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানাগেছে, বিশ্বের বৃহৎ গম উৎপাদন দেশ ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে সারাদেশে আটা-ময়দার দাম বৃদ্ধি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মফস্বল শহর শেরপুরেও। শেরপুর জেলা শহরের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতি কেজিতে আটা-ময়দার দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরাও বর্ধিত মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে পূর্বের দরে যেসব দোকানে আটা-ময়দা রয়েছে তারা সেই দামেই বিক্রি করছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবী করেছে। তবে ক্রেতাদের অনেকেই বলছে সব দোকানেই বর্ধিত মূল্যে আটা-ময়দা বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছে, তারা ঢাকা পাইকারী আড়ৎ থেকে থেকে বেশী দামে কিনে এখানেও সেই অনুযায়ী বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। শহরের নয়ানী বাজারস্থ একাধিক পাইকারী ও খুচরা দোকানীরা জানায়, তারা ঢাকা থেকেই বেশী দামে আটা-ময়দা কিনে এনে সেই হিসেবেই তারা বিক্রি করছে। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি আটা ও ময়দার দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই তারাও সেই অনুপাতে গায়ের মূল্য অনুযায়ী বিক্রি করছে। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে না।

এদিকে শহরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরায় আটা-তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে রুটির আকারও ছোট হয়ে গেছে। ফলে শহরের মেস ও হোস্টেলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা পড়েছে বেকায়দায়। তারা জানায়, কিছুদিন আগে আটার দাম বৃদ্ধির কথা বলে ৫ টাকার রুটি ১০ টাকায় করেন। কিন্তু বছর ঘুরতেই সেই রুটি এখন সেই আগের ৫ টাকার মূল্যের রুটির সমান হয়ে গেছে। বিভিন্ন মেসের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা মাত্র ৩০ টাকায় যেখানে সকালের নাস্তা শেষ করতে পারতেন এখান সেখানে খরচ হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা।

হোটেল মালিকরা জানায়, আটার পাশাপাশি তেলসহ অন্যান্য জিনিসের দাম বেশী হওয়ায় আমরা রুটির দাম বৃদ্ধি ও আকারও ছোট করতে বাধ্য হয়েছি।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ জানায়, আটা-ময়দার দাম বৃদ্ধি হলেও শহরের কোন ব্যবসায়ী যেনো কৃত্তিম সংকট তৈরী করতে না পারে সেজন্য শহরের বিভিন্ন দোকানে শতর্ক করাসহ নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া উপর থেকে নির্দেশনা মোতাবেক কোন ব্যবসায়ী যেন গায়ের মূল্যের চেয়ে কেউ বেশী দরে বিক্রি না করতে পারে সেজন্যও মনিটরিং করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
ভাগ